২০২৫ সালে শোবিজে যাদের সংসার ভাঙার খবর প্রকাশ্যে এসেছে

চলে যাচ্ছে ২০২৫ সাল। বছর শেষে হিসাব-নিকাশে দেখা যায়, এটি ছিল দেশীয় শোবিজ অঙ্গনের জন্য এক পরিবর্তনমুখর সময়। কাজের সংকট, সিনেমা হল কমে যাওয়া, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দর্শকের ঝোঁক—সব মিলিয়ে শিল্পীরা নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে সময় পার করেছে
ন। তবে পেশাগত আলোচনার পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে কিছু শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবনও।

২০২৫ সালে দেশীয় শোবিজে যেমন বেশ কয়েকটি বিয়ের খবর আলোচিত হয়েছে, তেমনি অল্প কিছু দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার ঘটনাও সামনে এসেছে। যদিও ভাঙনের সংখ্যা খুব বেশি নয়, তবু যেসব বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ পেয়েছে, সেগুলো ভক্তদের দৃষ্টি কেড়েছে। সংশ্লিষ্ট শিল্পীরাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং সংযত অবস্থান বজায় রেখেছেন।

দিলশাদ নাহার কনা ও গোলাম মোহাম্মদ ইফতেখার গহিন

২০২৫ সালে সংসার ভাঙার খবরে যাদের নাম প্রথমদিকে আলোচনায় আসে, তাদের মধ্যে অন্যতম সংগীতশিল্পী দিলশাদ নাহার কনা। তিনি ছয় বছর আগে ভালোবেসে গোলাম মোহাম্মদ ইফতেখার গহিনকে বিয়ে করেছিলেন। দাম্পত্য জীবনের শুরুটা সুখের হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দু’জনের মধ্যে মতের অমিল তৈরি হয় বলে জানা যায়।

শেষ পর্যন্ত পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই তারা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। চলতি বছরের ১৬ জুন তাদের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। বিচ্ছেদের পর কনাকে ঘিরে নতুন করে বিয়ের গুঞ্জন শোনা গেলেও পরে তা গুজব বলেই প্রমাণিত হয়। কনা নিজে বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি মন্তব্য না করলেও কাছের মহলের ভাষ্য, তিনি এখন নিজের কাজ ও ব্যক্তিগত স্থিরতার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।

হৃদয় খান ও হুমায়রা

সংগীতশিল্পী হৃদয় খান ২০২৫ সালে তার তৃতীয় বিয়ের বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আনেন। তিনি ২০১৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পারিবারিকভাবে হুমায়রার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার পর তাদের দাম্পত্য জীবনে দূরত্ব তৈরি হয়।

চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি হৃদয় খান নিজেই জানান, প্রায় সাত বছরের বেশি সময়ের সেই সম্পর্কের ইতি ঘটেছে। বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে তিনি সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে বিষয়টিকে একান্তই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন। শোবিজ অঙ্গনে তার এই খবর আলোচনায় এলেও দুই পক্ষই সংযত অবস্থান বজায় রাখেন এবং কোনো বিতর্কে জড়াননি।

রাশেদ মামুন অপু ও মমরেনাজ মোমো

অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু ও তার স্ত্রী, সংবাদপাঠিকা মমরেনাজ মোমোর বিচ্ছেদের ঘটনাটি ছিল ভিন্নধর্মী। কারণ তাদের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটেছিল প্রায় ছয় বছর আগে, কিন্তু এতদিন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসেনি।

চলতি বছরের ১৪ ডিসেম্বর মমরেনাজ মোমো নিজেই বিচ্ছেদের তথ্য নিশ্চিত করলে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। দীর্ঘদিন ব্যক্তিগত পরিসরে থাকা এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ প্রকাশ্যে আসায় অনেকেই বিস্মিত হন। তবে দুই পক্ষের কেউই একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তোলেননি।

কেন কম প্রকাশ্যে আসে ভাঙনের খবর

২০২৫ সালে শোবিজে বিচ্ছেদের খবর তুলনামূলকভাবে কম ছিল। সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান সময়ে অনেক শিল্পীই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগের চেয়ে বেশি সচেতন ও সংযত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য, কটাক্ষ ও ভুল ব্যাখ্যার আশঙ্কায় অনেকেই পারিবারিক বিষয় প্রকাশ্যে আনতে চান না।

ফলে অনেক বিচ্ছেদ নীরবে, আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয় এবং সংবাদে আসে দেরিতে কিংবা একেবারেই আসে না।

দর্শকের সংবেদনশীলতা জরুরি

শোবিজ তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন সবসময় দর্শকের কৌতূহলের জায়গা হলেও সম্পর্কের ভাঙন একটি সংবেদনশীল বিষয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু তারকার নয়, দুটি মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। ২০২৫ সালে যেসব শিল্পীর বিচ্ছেদের খবর এসেছে, সেগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে তথ্যভিত্তিক ও সংযতভাবে—যা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বছর শেষে এক নজরে

সব মিলিয়ে ২০২৫ সালে দেশীয় শোবিজে বিচ্ছেদের ঘটনা খুব বেশি নয়। তবে যেগুলো সামনে এসেছে, সেগুলো ছিল বাস্তব, মানবিক এবং মর্যাদাপূর্ণ উপস্থাপনার উদাহরণ। বছর শেষে এই ঘটনাগুলো আবারও মনে করিয়ে দেয়—তারকারাও সাধারণ মানুষের মতোই জীবনসংগ্রাম, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বাস্তবতার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যান।