জরিপে উঠে এলো : নির্বাচনে কতজন মানুষ চান না আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ


বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক-পারিপার্শ্বিক রাজনীতি নিয়ে নতুন জরিপে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। কিমেকারস কনসাল্টিং লিমিটেডের পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, দেশের জনমতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ—২৮ শতাংশ মানুষ—চায় না আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক।

জরিপের পদ্ধতি ও পরিসর

জরিপের শিরোনাম ছিল ‘গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়ে জাতীয় জনমত জরিপ ২০২৫’। এতে দেশের পাঁচটি নগর এবং পাঁচটি গ্রাম বা আধা-শহর এলাকার ১৮–৫৫ বছর বয়সী মোট ১,৩৪২ জন মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পুরুষের সংখ্যা ৬৭৪ এবং নারীর সংখ্যা ৬৬৮। তথ্য সংগ্রহ করা হয় ২১–২৮ অক্টোবর। জরিপটি অনলাইন এবং ছাপা পত্রিকা পড়তে সক্ষম ব্যক্তিদের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়, যারা আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা রাখেন। জরিপের ফলাফলের নির্ভরযোগ্যতার মাত্রা ৯৯ শতাংশ ধরা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে জনমত

জরিপে বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ বিষয়ে জনগণের মতামত জানার চেষ্টা করা হয়। এখানে মূল তথ্যগুলো হলো—

  • ২৭.৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন, শর্তহীনভাবে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।

  • ২৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, শাস্তি বা প্রয়োজনীয় সংস্কারের পর তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

  • ১৪.৮ শতাংশ বিশ্বাস করেন, আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইলেই দল ভোটে ফেরানো যেতে পারে।

অন্যদিকে, শুধুমাত্র ২৮ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগের ভোটে অংশগ্রহণ না চাওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। এটি দেখায়, দেশের জনমতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও দলটির প্রতি নেতিবাচক মনোভাব রাখে।

শর্তসাপেক্ষ ও নিশ্চিত নন ভোটার

জরিপে আরো দেখা গেছে—

  • 0.4 শতাংশ মানুষ মনে করেন, শর্তসাপেক্ষে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

  • 0.1 শতাংশ মানুষ মনে করেন, আগে বিচার শেষ হওয়া উচিত।

  • ১ শতাংশ মানুষ নির্বাচন সংক্রান্ত অন্যান্য শর্তে ভোটে অংশগ্রহণের পক্ষে।

  • ২.৬ শতাংশ মানুষ এই বিষয়ে নিশ্চিত নন।

সব মিলিয়ে, ৬৯.২ শতাংশ মানুষ শর্তহীন বা শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

নির্বাচনী ফলাফলের পূর্বাভাস

জরিপে ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, বিএনপি নির্বাচনে বেশি আসনে জয়লাভ করবে। জরিপ অনুযায়ী, ৬৬ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি সবচেয়ে বেশি আসনে জিতবে। এটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের জন্য নতুন কিছু তথ্য ইঙ্গিত করছে।

জনমতের বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের জরিপ দেখায়—

  1. ভোটাররা দলকে সমর্থন বা বিরোধিতা করার সময় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় বিবেচনা করে।

  2. রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড, নীতি ও নির্বাচনী কৌশল সরাসরি জনমতের ওপর প্রভাব ফেলে।

  3. জনগণ এখনও নির্বাচন প্রক্রিয়া ও অংশগ্রহণ বিষয়ে সচেতন।

শহর ও গ্রামাঞ্চলের ভিন্নতা

জরিপে দেখা গেছে, নগর এবং গ্রামীণ এলাকার ভোটারদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রতি মনোভাব ভিন্ন। শহরের ভোটাররা তুলনামূলকভাবে শর্তহীন সমর্থন প্রকাশ করেছেন, আর গ্রামীণ অঞ্চলে শর্তসাপেক্ষ বা বিরোধী মনোভাব বেশি দেখা গেছে।

সার্বিক প্রভাব

এই জরিপ প্রমাণ করছে যে, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনমতের বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাব থাকা সত্ত্বেও বড় সংখ্যক মানুষ শর্তসাপেক্ষে বা শর্তহীনভাবে তাদের অংশগ্রহণকে সমর্থন করছে। এটি দলটির নির্বাচনী কৌশল ও প্রচারণার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

নির্বাচনপ্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সংলাপ

এই জরিপের ফলাফলের আলোকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন,—

  • দলগুলোকে জনগণের মনোভাব ও প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচনী কৌশল সাজাতে হবে।

  • জনমত বোঝার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা ও সংলাপের ধরন নির্ধারণ করা সম্ভব।

  • রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ ও জনগণের সাথে সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

উপসংহার

কিমেকারস কনসাল্টিংয়ের জরিপ দেখিয়েছে, দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনগণের মনোভাব বৈচিত্র্যময়। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিয়ে জনমতের বিভাজন প্রমাণ করে যে, জনগণ দলটির প্রতি সমর্থন এবং বিরোধিতা—উভয় দিকেই স্পষ্ট।

এ ধরনের জরিপ ভবিষ্যতে ভোটারদের মনোভাব বোঝার, রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

গিনি-বিসাউয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ: প্রেসিডেন্ট ও নেতাদের আটক, নির্বাচনী পরিস্থিতি স্থগিত

এমটি কায়রোসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: কেমন আছেন বাংলাদেশি নাবিকরা?

তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারছেন না কেন? দেশের বাইরে থাকা নেতার আসল সত্য!