চিকিৎসা শেষে লন্ডনে ইলিয়াস কাঞ্চন—দীর্ঘদিন পর সহকর্মী সোনিয়ার সঙ্গে আবেগঘন পুনর্মিলন
বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বহু দশক ধরে চলচ্চিত্রের দর্শকদের কাছে এক পরিচিত নাম। অভিনয়ে সাফল্যের পাশাপাশি দেশের সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনে তাঁর অবদান তাকে আরও বিশেষ মর্যাদায় আসীন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছেন তিনি। চিকিৎসা–শেষ বিশ্রামের এই সময়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন নব্বই দশকের পরিচিত মুখ, চিত্র নায়িকা সোনিয়া।
দীর্ঘদিন পর দুই তারকার এই সাক্ষাৎ নিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চিকিৎসা শেষে বিশ্রামে ইলিয়াস কাঞ্চন
ইলিয়াস কাঞ্চন সবসময়ই জনজীবন ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। বিভিন্ন সেমিনার, সভা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মধ্যে তাঁর দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে। ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি নিয়মিত কাজ করেছেন নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে।
তবে গত কয়েক মাসে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হয়েছিল বলে সূত্র জানিয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি লন্ডনে চিকিৎসা নিতে যান। প্রয়োজনীয় মেডিকেল চেকআপ ও চিকিৎসার পর এখন ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে।
চিকিৎসার ফলোআপ শেষে এখন তিনি বিশ্রাম নিচ্ছেন এবং পারিবারিক সময় কাটাচ্ছেন।
সোনিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন পর দেখা
লন্ডনে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান ৯০ দশকের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সোনিয়া, যিনি বাংলা সিনেমায় একসময় নিয়মিত ছিলেন।
সোনিয়া অভিনয়জীবনে একাধিক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন, তবে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পর্দার বাইরে—ব্যক্তিগত জীবন ও নিজের ব্যস্ততায়।
দুজনের এই সাক্ষাৎকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উষ্ণ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
সাক্ষাতে আলোচনার মূল বিষয়সমূহ—
-
দুজনের অভিনয়জীবনের স্মৃতি
-
বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান অবস্থা
-
ইলিয়াস কাঞ্চনের স্বাস্থ্য
-
ভবিষ্যতে শিল্প অঙ্গনের সম্ভাবনা
-
ব্যক্তিজীবনের খোঁজখবর
দীর্ঘ সময় তারা একান্তে কথা বলেন এবং অতীত স্মৃতি রোমন্থন করেন।
৯০ দশকের দুই তারকা—এক প্রজন্মের স্মৃতি
বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগে যারা বড় হয়েছেন, তাদের কাছে ইলিয়াস কাঞ্চন ও সোনিয়া দুজনেই সুপরিচিত মুখ।
ইলিয়াস কাঞ্চন যেখানে অ্যাকশন ও ড্রামা সিনেমায় আধিপত্য বিস্তার করেছেন, সেখানে সোনিয়া ছিলেন রোমান্টিক ও পারিবারিক গল্পের জনপ্রিয় নায়িকা।
দর্শকদের স্মৃতিতে—
-
“প্রেমের বাঁধন”
-
“অন্তরে অন্তরে”
-
“চোখের দেখা”
-
“সোনার চাবি”
—এসব সিনেমায় দুজনের অভিনয় আজও প্রশংসিত।
সুতরাং লন্ডনে তাদের এই পুনর্মিলন অনেকের জন্য নস্টালজিক অনুভূতির জন্ম দিয়েছে।
ইলিয়াস কাঞ্চনের আন্দোলনের প্রসঙ্গও উঠে আসে
সোনিয়া সাক্ষাতে ইলিয়াস কাঞ্চনের সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনের বর্তমান অগ্রগতি নিয়েও খোঁজখবর নেন।
কারণ—
ইলিয়াস কাঞ্চন শুধু অভিনেতা নন, তিনি ‘নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’–এর প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
সাক্ষাতে দুজনই বলেন—
-
বর্তমান প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত
-
জনসচেতনতা বাড়াতে অভিনেতাদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন
-
শিল্পের মান উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে
লন্ডনে সাক্ষাৎকার পরিবেশ: ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মানবিক প্রকাশ
দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ায় দুজনের মধ্যে ছিল আন্তরিকতা ও উষ্ণতা।
চলচ্চিত্রের ব্যস্ত সময় থেকে ব্যক্তিজীবনের নানা স্মৃতি—সবই উঠে আসে তাদের আলোচনায়।
সাক্ষাতের পর সোনিয়া বলেন—
“কাঞ্চন ভাইয়ের সঙ্গে দেখা সবসময়ই বিশেষ। তিনি শুধু বড় মাপের অভিনেতা নন; একজন ভালো মানুষও। তাঁর সুস্থতা কামনা করি।”
অন্যদিকে ইলিয়াস কাঞ্চনও সোনিয়াকে ধন্যবাদ জানান তাঁর প্রতি খোঁজখবর নেওয়ার জন্য।
চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া: নস্টালজিয়া ও আবেগ
সাক্ষাতের একটি ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তেই ভক্তদের মধ্যে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
দর্শকদের মন্তব্য—
-
“দুই কিংবদন্তি এক ফ্রেমে—অসাধারণ!”
-
“আমাদের ছোটবেলার নায়ক–নায়িকা, ভালো লাগছে।”
-
“চলচ্চিত্রে এমন সম্পর্কই প্রাণ দেয়।”
চলচ্চিত্র পরিবারও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
তারা বলছেন—
শিল্পীদের মাঝে মানবিকতা ও বন্ধুত্ব চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও শক্তিশালী করে।
সামনের পরিকল্পনা কী?
ইলিয়াস কাঞ্চন চিকিৎসা শেষ করে কিছুদিন লন্ডনে থাকবেন। এরপর দেশে ফিরে নতুন কিছু সামাজিক কর্মসূচি ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কাজে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
সোনিয়া বর্তমানে ব্যক্তিজীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও তিনি জানিয়েছেন—চলচ্চিত্রে ফিরে আসার বিষয়ে নতুন ভাবনা রয়েছে।
যদিও এটি এখনও চূড়ান্ত নয়, তবে ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
উপসংহার
লন্ডনে ইলিয়াস কাঞ্চন ও সোনিয়ার এই সাক্ষাৎ শুধু ব্যক্তিগত নয়, বাংলা চলচ্চিত্রের দীর্ঘযাত্রার একটি আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
দুজনেই বাংলা সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এবং তাদের পুনর্মিলন স্মরণ করিয়ে দেয় চলচ্চিত্র শুধু শিল্প নয়—একটি পরিবার।
শিল্পীদের মধ্যে এ ধরনের আন্তরিকতা নতুন প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
