নব্বই দশকের রুপালি পর্দার চার নায়িকা এখন সন্তানের মা ও শ্বাশুড়ী


বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের নব্বই দশক মানেই রুপালি পর্দার স্বর্ণালি সময়। সেই সময়ের সিনেমা, গান, গল্প আর অভিনয়—সব মিলিয়ে একটি প্রজন্মের শৈশব ও কৈশোর জড়িয়ে আছে এই দশকের সঙ্গে। আর এই সময়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক ছিলেন কয়েকজন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা, যারা দর্শকের হৃদয়ে আজও অমলিন।

আজ আমরা কথা বলবো নব্বই দশকের সেরা চার চলচ্চিত্র অভিনেত্রী এবং তাদের সন্তানদের নিয়ে। সময় বদলেছে, ছবিগুলো পুরোনো হয়েছে, কিন্তু তাদের স্মৃতি ও ভালোবাসা আজও ঠিক একই রকম রয়ে গেছে।

চিত্রনায়িকা মৌসুমী: পর্দার তারকা থেকে গর্বিত মা

নব্বই দশকের শুরু থেকে শেষ—পুরো সময়জুড়েই মৌসুমী ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান মুখ। অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে তিনি দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেছেন।

বাস্তব জীবনে মৌসুমী দুই সন্তানের মা। তার ছেলে ফারদিন এবং মেয়ে ফাইজা। ছোটবেলার সেই ছবিগুলো এখন স্মৃতির অ্যালবামে বন্দি, কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা দুজনই অনেক বড় হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি মৌসুমী তার ছেলেকে বিয়ে দিয়েছেন এবং পরিবারে নতুন সদস্য হিসেবে পেয়েছেন আরেকটি মেয়ে—ছেলের বউমা আয়েশা। একজন সফল অভিনেত্রী হওয়ার পাশাপাশি একজন মমতাময়ী মা ও পরিবারের অভিভাবক হিসেবে মৌসুমীর এই অধ্যায় দর্শকের কাছেও বেশ আবেগের।

চিত্রনায়িকা শাবনূর: নব্বই দশকের আবেগের নাম

নব্বই দশকের শেষ ভাগে শাবনূর ছিলেন দর্শকের আবেগের প্রতীক। তার অভিনয়, সংলাপ ও অভিব্যক্তি আজও অনেকের মনে গেঁথে আছে।

শাবনূরের একমাত্র সন্তান ছেলে আইজান। ক্যামেরার ঝলকানি থেকে অনেকটাই দূরে রেখে তিনি ছেলেকে বড় করেছেন। পুরোনো ছবিতে যে ছোট্ট আইজানকে দেখা যেত, আজ সে অনেকটাই বড় হয়ে গেছে।

মা হিসেবে শাবনূর বরাবরই দায়িত্বশীল। অভিনয়ের ব্যস্ত সময় পেরিয়ে এখন পরিবারই তার জীবনের বড় অংশ—এমনটাই ভক্তদের চোখে ধরা পড়ে।

চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা: হাসি আর প্রাণবন্ত উপস্থিতি

পূর্ণিমা মানেই পর্দাজুড়ে প্রাণবন্ত হাসি আর সাবলীল অভিনয়। নব্বই দশকের শেষভাগে এবং দুই হাজারের শুরুর দিকে তিনি দর্শকের হৃদয়ে নিজের জায়গা শক্ত করে নিয়েছিলেন।

পূর্ণিমার একমাত্র কন্যাসন্তান উমাইজা। মেয়েকে ঘিরেই তার পৃথিবী। ছোট্ট উমাইজার সেই পুরোনো ছবিগুলো এখন স্মৃতির অংশ, কারণ সময়ের সঙ্গে সেও বড় হয়ে উঠছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি একজন সচেতন মা হিসেবে পূর্ণিমার জীবনযাপন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার।

চিত্রনায়িকা পপি: শক্তিশালী চরিত্রের প্রতিচ্ছবি

পপি ছিলেন নব্বই দশকের শেষের দিকের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেত্রী। ভিন্নধর্মী চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকের মনে আলাদা ছাপ ফেলেছিল।

বাস্তব জীবনে পপির একমাত্র ছেলে আয়াত। পর্দার বাইরে তিনি সব সময়ই চেষ্টা করেছেন ছেলেকে স্বাভাবিক পরিবেশে বড় করে তুলতে। পুরোনো ছবির সেই ছোট্ট আয়াত এখন অনেকটাই বড় হয়েছে।

পপির জীবনেও পরিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে, যা তার ভক্তদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা দেয়।

সময় বদলেছে, স্মৃতি রয়ে গেছে

এই চার অভিনেত্রীর সন্তানদের ছোটবেলার ছবিগুলো এখন অতীত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা সবাই বড় হয়ে উঠেছে, বদলেছে জীবনধারা। কিন্তু নব্বই দশকের সেই সিনেমাগুলো আজও দর্শকের মনে একই রকম ভালোবাসা জাগায়।

এই অভিনেত্রীদের সিনেমা দেখে একটি পুরো প্রজন্ম বড় হয়েছে। তাদের অভিনয়, গান আর গল্প আমাদের স্মৃতির অংশ হয়ে আছে।

নব্বই দশকের তারকাদের পারিবারিক জীবন

পর্দার ঝলমলে জীবনের বাইরে এই অভিনেত্রীরা বাস্তব জীবনে সাধারণ মায়ের মতোই সন্তানদের মানুষ করেছেন। সাফল্য, জনপ্রিয়তা আর দায়িত্ব—সবকিছুর ভারসাম্য রেখে তারা নিজেদের পরিবারকে আগলে রেখেছেন।

আজ তারা শুধু তারকা নন, একজন গর্বিত মা হিসেবেও পরিচিত।

শুভকামনার বার্তা

চিত্রনায়িকা মৌসুমী, শাবনূর, পূর্ণিমা ও পপি—নব্বই দশকের এই চার উজ্জ্বল তারকার জন্য রইলো অনেক অনেক শুভকামনা। একই সঙ্গে তাদের সন্তান ও পুরো পরিবারের জন্যও থাকলো আন্তরিক ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

গিনি-বিসাউয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ: প্রেসিডেন্ট ও নেতাদের আটক, নির্বাচনী পরিস্থিতি স্থগিত

এমটি কায়রোসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: কেমন আছেন বাংলাদেশি নাবিকরা?

তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারছেন না কেন? দেশের বাইরে থাকা নেতার আসল সত্য!