ইসি ও তিন বাহিনীর প্রধানদের বৈঠক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা


রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আজ রোববার অনুষ্ঠিত হলো নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও দেশের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। বৈঠকটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করা। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়।

বাহিনীর প্রধানদের স্বাগত ও বৈঠক সূচনা

বৈঠকের শুরুতে ইসি সচিব আখতার আহমেদ তিন বাহিনীর প্রধানদের স্বাগত জানান। প্রথমে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এরপর নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং শেষমেশ বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নির্বাচনী ভবনে প্রবেশ করেন। স্বাগত পর্ব শেষে বৈঠক শুরু হয়, যা প্রায় এক ঘণ্টা চলে।

মূল আলোচ্য বিষয়

বৈঠকের মূল বিষয়গুলো ছিল:

  • নির্বাচনের নিরাপত্তা: প্রায় ৭০–৯০ হাজার সেনা সদস্য এবং ৭ লক্ষাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনী এলাকায় মোতায়েন থাকবে।

  • অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ: ভোট কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়ন: প্রার্থী এবং রাজনৈতিক দলের জন্য প্রণীত আচরণবিধি ২০২৫ অনুযায়ী নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ।

  • জয়েন্ট অপারেশন পরিকল্পনা: সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী একযোগে নির্বাচনী এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।

সিইসি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, “আমরা চাই সকল ভোটার নিরাপদভাবে ভোট দিতে পারুক। এই বৈঠক নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

নির্বাচনী পরিবেশ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা

নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে মোতায়েন বাহিনীর সংখ্যা, দায়িত্ব ভাগাভাগি এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়েছে। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর কার্যক্রম একত্রে সমন্বয় করে ভোটকেন্দ্রে শান্তি বজায় রাখা হবে। এছাড়া, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য বিশেষ টিম প্রস্তুত থাকবে।

নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি প্রার্থী এবং রাজনৈতিক দলকে সীমার মধ্যে রাখার জন্য জরুরি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জনসভায় আচরণবিধি মেনে চলার ওপর বাহিনী প্রধানদের দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তী পরিকল্পনা

আজকের বৈঠকের পর আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে ইসি সচিবালয়ে, যেখানে নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা হবে। এই বৈঠকে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অনিয়ম রোধ এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই ধরনের উচ্চপর্যায় বৈঠক ভোটার, প্রার্থী এবং রাজনৈতিক দলের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বয় নিশ্চিত করবে।

উপসংহার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ করার জন্য নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোরভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর মোতায়েন, যৌথ পরিকল্পনা এবং আচরণবিধি বাস্তবায়ন দেশের ভোটারদের জন্য একটি নিরাপদ ভোট নিশ্চিত করবে। এই উদ্যোগ দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

গিনি-বিসাউয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ: প্রেসিডেন্ট ও নেতাদের আটক, নির্বাচনী পরিস্থিতি স্থগিত

এমটি কায়রোসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: কেমন আছেন বাংলাদেশি নাবিকরা?

তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারছেন না কেন? দেশের বাইরে থাকা নেতার আসল সত্য!