এক সময়ের জনপ্রিয় নায়কদের, রুপালি পর্দার বাইরে সুখের গল্প
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের এক সময়ের জনপ্রিয় নায়কদের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিটিভিতে দেখা অসংখ্য সিনেমা, হৃদয় ছোঁয়া গান আর প্রিয় নায়িকাদের সঙ্গে রোমান্টিক দৃশ্য। সেই সময়ের নায়কেরা ছিলেন দর্শকের ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু। তবে পর্দার বাইরেও তারা গড়েছেন সুন্দর, স্থির ও ভালোবাসায় ভরা সংসার—যা আজও অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা।
আজ আমরা এমন চারজন জনপ্রিয় চিত্রনায়কের পারিবারিক জীবনের গল্প জানবো, যাদের সিনেমা দেখে একটি প্রজন্ম বড় হয়েছে।
চিত্রনায়ক অমিত হাসান: দীর্ঘ সময়ের সংসার জীবনের উদাহরণ
অমিত হাসান এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক, যিনি বহু সফল সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন। শক্তিশালী উপস্থিতি ও সংলাপ বলার ভঙ্গি তাকে আলাদা পরিচিতি দেয়।
ব্যক্তিগত জীবনে অমিত হাসান তার সহধর্মিণী অনন্যার সঙ্গে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সংসার করছেন। এই দীর্ঘ পথচলায় তাদের সংসার বরাবরই স্থিতিশীল ও সুন্দর। তাদের দুই কন্যা—লামিসা ও নামিরা।
পরিবারকেন্দ্রিক জীবনযাপন এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া তাদের দাম্পত্য জীবনের মূল শক্তি বলে মনে করেন কাছের মানুষরা।
চিত্রনায়ক আমিন খান: পরিবার ও অভিনয়ের ভারসাম্য
নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক আমিন খান তার অভিনয় ও রোমান্টিক ইমেজ দিয়ে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। বিটিভিতে প্রচারিত তার সিনেমা ও গান আজও অনেকের স্মৃতিতে রয়ে গেছে।
আমিন খানের সহধর্মিণী স্নিগ্ধা খান। তারা ১৯৯৮ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে রয়েছে দুই পুত্র সন্তান—ফারহান ও ঈশান।
ঈশান ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছে, যা দর্শকের নজর কেড়েছিল।
একটি মজার বিষয় হলো—অমিত হাসানের সহধর্মিণী অনন্যা এবং আমিন খানের সহধর্মিণী স্নিগ্ধা খান খালাতো বোন। এই পারিবারিক সম্পর্কের কারণে অমিত হাসান ও আমিন খান বাস্তব জীবনেও ভায়রা ভাই।
চিত্রনায়ক রিয়াজ আহমেদ: তারকাখ্যাতির আড়ালে পারিবারিক মানুষ
রিয়াজ আহমেদ দীর্ঘ সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক। অ্যাকশন, রোমান্স কিংবা পারিবারিক গল্প—সব ধরনের চরিত্রেই তিনি দর্শকের মন জয় করেছেন।
২০০৭ সালে রিয়াজ আহমেদ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মুশফিকা খান তিনার সঙ্গে। তিনা শুরুতে বিজ্ঞাপন ও মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তিনি একজন নৃত্যশিল্পীও।
এই দম্পতির সংসারে রয়েছে দুই সন্তান—একটি কন্যা আমেরা এবং একটি পুত্র আরিজ।
তারকাখ্যাতির মাঝেও রিয়াজ বরাবরই পরিবারকেন্দ্রিক জীবনযাপনে বিশ্বাসী, যা তার ব্যক্তিত্বের একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে ভক্তরা দেখেন।
চিত্রনায়ক শাকিল খান: নীরব কিন্তু স্থির সংসার
শাকিল খান নব্বই দশকের শেষ ও দুই হাজারের শুরুর দিকে দর্শকের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। তার অভিনীত সিনেমা ও গান আজও অনেকের প্রিয় তালিকায় আছে।
২০০৫ সালে শাকিল খান তার সহধর্মিণী শারমিনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে রয়েছে দুই সন্তান—ছেলে সাদমান এবং মেয়ে সামিকা।
এছাড়াও শাকিল খানের বড় আরেক ছেলের নাম আরিয়ান।
চলচ্চিত্রের বাইরে তিনি তুলনামূলক নীরব জীবনযাপন করলেও পরিবার নিয়ে তার জীবন বেশ গুছানো ও স্থিতিশীল।
বিটিভির পর্দায় বেড়ে ওঠা স্মৃতি
এই চার চিত্রনায়কের অভিনীত অসংখ্য সিনেমা এক সময় বিটিভির পর্দায় নিয়মিত দেখা যেত। প্রিয় নায়িকাদের সঙ্গে তাদের রোমান্টিক দৃশ্য, জনপ্রিয় গান—সব মিলিয়ে সেগুলো ছিল আমাদের বিনোদনের বড় অংশ।
আজ সময় বদলেছে, মিডিয়াম বদলেছে, কিন্তু সেই স্মৃতিগুলো এখনও অ্যালবামের পাতায় ও দর্শকের মনে রয়ে গেছে।
সন্তানরা বড় হয়েছে, সময় এগিয়েছে
এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এই লেখায় ব্যবহৃত ছবিগুলো বেশ আগের সময়ের। বর্তমানে এই চার নায়কের সন্তানরা সবাই অনেকটাই বড় হয়ে উঠেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের জীবনও নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।
এগুলো পুরোনো অ্যালবাম থেকে সংগৃহীত ছবির কোলাজ, যা অতীতের স্মৃতিকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।
শুভকামনার বার্তা
অমিত হাসান, আমিন খান, রিয়াজ আহমেদ ও শাকিল খান—এই চার জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শুধু পর্দার তারকা নন, বাস্তব জীবনেও তারা পরিবারকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে চলেছেন।
তাদের এবং তাদের পুরো পরিবারের জন্য রইলো আন্তরিক শুভকামনা। ভালোবাসা, সুস্থতা ও সুখে ভরে উঠুক তাদের আগামীর দিনগুলো।
