মুকুট না পেলেও অভিনয়ে বাজিমাত! লাক্সের এই ৪ সুন্দরী তারকা কেন দর্শকের প্রিয়
বাংলাদেশের টেলিভিশন ও বিনোদন জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি হলো লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার। এই প্রতিযোগিতা শুধু নতুন মুখ খুঁজে দেয় না, বরং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় অভিনেত্রীদের জন্য একটি বড় মঞ্চ তৈরি করে। তবে বাস্তবতা হলো—প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হলেই যে সবাই বড় তারকা হবেন, এমনটা নয়। আবার অনেক সময় মুকুট না পেলেও কেউ কেউ অভিনয়ের গুণে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন।
আজ আমরা এমন চারজন লাক্স সুন্দরী অভিনেত্রীর কথা বলবো, যারা নিজ নিজ সিজনে মুকুট জিততে পারেননি, কিন্তু অভিনয় দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন।
নাজিয়া হক অর্ষা: অভিনয়ে সাবলীলতার নাম
২০০৯ সালের লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় নাজিয়া হক অর্ষা সেরা পাঁচে জায়গা করে নিয়ে রানার আপ হন। প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর থেকেই তিনি ধীরে ধীরে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করতে শুরু করেন।
অর্ষার সবচেয়ে বড় শক্তি তার অভিনয়ের স্বাভাবিকতা। তিনি এমন চরিত্রও অনায়াসে ফুটিয়ে তুলতে পারেন, যেগুলো সহজ নয়। ‘এক হৃদয়হীনা’ কিংবা ‘সাবরিনা’—এ ধরনের ভিন্নধর্মী চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের আলাদা করে নজর কাড়ে। অর্ষা খুব বেছে কাজ করেন, আর এ কারণেই তার কাজের মান বরাবরই প্রশংসিত।
তার হাসি, সংলাপ বলার ধরন এবং ক্যামেরার সামনে আত্মবিশ্বাস তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। মুকুট না পেলেও অভিনয়ে তিনি যে কতটা এগিয়ে, তা তার কাজই প্রমাণ করে।
মৌসুমী হামিদ: আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি ও শক্তিশালী অভিনয়
২০১০ সালের লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টারে প্রথম রানার আপ ছিলেন মৌসুমী হামিদ। প্রতিযোগিতার সময় থেকেই তার ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস ও উপস্থিতি আলাদা করে চোখে পড়ে।
মৌসুমীর চুল ও স্টাইল অনেক দর্শকের বিশেষ পছন্দের। তবে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, অভিনয়ের ক্ষেত্রেও তিনি বেশ দক্ষ। তিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করেছেন এবং নিজের জায়গা তৈরি করেছেন ধারাবাহিক নাটকে।
যদিও সব সময় খুব বেছে কাজ করার সুযোগ তিনি পাননি, তবুও তার অভিনীত বেশ কিছু নাটক দর্শকের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। মৌসুমী হামিদের অভিনয়ে এক ধরনের পরিপক্বতা আছে, যা সময়ের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হয়েছে।
নাজিফা আনজুম তুশি: কম কাজ, কিন্তু গভীর ছাপ
২০১৪ সালের লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টারে প্রথম রানার আপ ছিলেন নাজিফা আনজুম তুশি। অন্যদের তুলনায় এখন পর্যন্ত তিনি তুলনামূলক কম কাজ করেছেন, কিন্তু যেটুকু করেছেন, তাতেই নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
তুশির অভিনয়ের সবচেয়ে বড় গুণ হলো—তিনি প্রতিটি চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে পুরোপুরি মিশিয়ে ফেলতে পারেন। চরিত্র বুঝে নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে তৈরি করার চেষ্টা তার অভিনয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
তার হাসি, চোখের অভিব্যক্তি এবং সংযত অভিনয় দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়। কম কাজ করেও তিনি প্রমাণ করেছেন, সংখ্যার চেয়ে মানটাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই মনোভাবই তাকে একজন প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেত্রী হিসেবে তুলে ধরে।
সামিয়া অথৈ: অভিনয় ও নাচের মেলবন্ধন
২০১৮ সালের লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানার আপ ছিলেন সামিয়া অথৈ। প্রতিযোগিতার অভিনয় পর্বে নিজের গল্পে তার অভিনয় দেখেই অনেকের মনে হয়েছিল—এই মেয়ের ভেতরে অভিনয়ের ভালো সম্ভাবনা আছে।
পরবর্তী সময়ে করা কিছু নাটকে তিনি সেই সম্ভাবনার প্রমাণও দিয়েছেন। বিশেষ করে ‘কাজলের দিনরাত্রি’ নাটকে তার অভিনয় প্রশংসা পেয়েছে। সামনে ভালো গল্প ও চরিত্রে কাজের সুযোগ পেলে তিনি আরও ভালো করবেন—এমন বিশ্বাস অনেক দর্শকেরই।
অভিনয়ের পাশাপাশি নাচেও তিনি অসাধারণ। প্রতিযোগিতায় সেরা নৃত্যশিল্পী হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন। এই বহুমুখী প্রতিভা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।
মুকুট না পেলেও সাফল্যের গল্প
এই চারজন অভিনেত্রীই প্রমাণ করেছেন, লাক্সের মুকুটই সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড নয়। নিজেদের যোগ্যতা, পরিশ্রম ও অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে তারা ধীরে ধীরে নিজেদের পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।
তাদের পথচলা সহজ ছিল না। প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর নিয়মিত কাজ পাওয়া, ভালো চরিত্র বেছে নেওয়া এবং নিজেকে প্রমাণ করা—সবকিছুই ছিল চ্যালেঞ্জিং। তবুও তারা থেমে যাননি।
দর্শকের ভালোবাসাই আসল অর্জন
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই চার লাক্স সুন্দরী তারকা অভিনেত্রী দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কাজ নিয়ে আলোচনা, নাটকের দৃশ্য নিয়ে প্রশংসা—সবকিছুই প্রমাণ করে, দর্শক তাদের কাজ মূল্যায়ন করছে।
আজ তারা চারজনই নিজেদের মতো করে অভিনয়জগতে আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। ভবিষ্যতে তাদের কাজের পরিমাণ ও ভালো গল্পে উপস্থিতি আরও বাড়বে—এমনটাই প্রত্যাশা।
শুভকামনা
নাজিয়া হক অর্ষা, মৌসুমী হামিদ, নাজিফা আনজুম তুশি ও সামিয়া অথৈ—এই চারজন লাক্স সুন্দরী অভিনেত্রীর জন্য রইলো আন্তরিক শুভকামনা। তাদের চেষ্টা, ধৈর্য ও অভিনয় দক্ষতা যেন আরও বড় সাফল্য নিয়ে আসে, সেই প্রত্যাশাই রইলো।
