রাজনীতিতে নতুন মোড়: তারেক রহমানের ‘আমজনতার দলে’ যোগ দিলেন হিরো আলম, আসছে বড় দায়িত্ব?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন একটি আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ও আলোচনাসৃষ্টিকারী ব্যক্তি আশরাফুল আলম, যিনি সর্বাধিক পরিচিত হিরো আলম নামে। তিনি সম্প্রতি মো. তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘আমজনতার দল’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন। এই যোগদান শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হিরো আলম নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকার পরিকল্পনা করছিলেন। অতীতে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলেও এবার তিনি দলীয় রাজনীতির ভেতরে থেকেই নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত ও ভেবেচিন্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত।
তিনি জানান, সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে এরই মধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল। তবে আদর্শগত মিল না থাকায় সেসব দলে যোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতি শুধু নির্বাচনের জন্য নয়, বরং আদর্শ ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়। যেখানে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া যায় না, সেখানে কাজ করাও কঠিন।
এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনার কথা উল্লেখ করেন হিরো আলম। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে তিনি আমজনতার দলের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও রাজনৈতিক দর্শন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান। দলটির সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্বের কথা ও তৃণমূলকেন্দ্রিক রাজনীতির ভাবনা তাকে আকৃষ্ট করে।
রবিবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে আমজনতার দলে যোগ দেন হিরো আলম। তিনি জানিয়েছেন, দলীয়ভাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক অবস্থান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। দলটির পক্ষ থেকেও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
আমজনতার দলের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, হিরো আলম দলে যোগ দেওয়ার পর তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো পদ ঘোষণা করা হয়নি, তবে তার জনপ্রিয়তা ও গণমাধ্যমে পরিচিতিকে দল সাংগঠনিকভাবে কাজে লাগাতে চায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হিরো আলমের রাজনৈতিক যাত্রা নতুন নয়। এর আগে তিনি একাধিকবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং ভোটের মাঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ব্যাপক উপস্থিতি তাকে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলে। সমর্থকরা মনে করেন, তার জনপ্রিয়তা মূলত তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ফল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হিরো আলমের মতো আলোচিত ব্যক্তির দলীয় রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্তি নতুন ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর জনগোষ্ঠীর মধ্যে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।
তবে সমালোচকরাও রয়েছেন। তাদের মতে, রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নীতিনির্ধারণে দক্ষতা। এ বিষয়ে হিরো আলম বলেন, রাজনীতি শেখার একটি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং তিনি দলের ভেতর থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করতে চান।
আমজনতার দল সম্প্রতি দেশের রাজনীতিতে একটি বিকল্প ধারার কথা তুলে ধরছে। দলটি সাধারণ মানুষের সমস্যা, ভোটাধিকার, স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির ওপর জোর দিচ্ছে। এই দর্শনের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারার কথাই তুলে ধরেন হিরো আলম।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই যোগদানকে অনেকেই কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। দলীয় রাজনীতিতে নতুন মুখ হিসেবে হিরো আলম কতটা প্রভাব ফেলতে পারবেন, সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে এটুকু নিশ্চিত, তার এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও আগ্রহ তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে, হিরো আলমের আমজনতার দলে যোগদান বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এটি যেমন তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক যাত্রার নতুন অধ্যায়, তেমনি আমজনতার দলের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। আগামী দিনগুলোতে তার ভূমিকা ও দায়িত্ব কী হয়, সেদিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের।
