নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সাংগঠনিক তৎপরতা, তৃণমূলে নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করছে আওয়ামী লীগ
রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাংগঠনিক যোগাযোগ ধরে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, তৃণমূল পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠন, দায়িত্ব পুনর্বণ্টন, অনলাইন যোগাযোগ জোরদার এবং সীমিত পরিসরে কর্মসূচির মাধ্যমে সাংগঠনিক কাঠামো সচল রাখার চেষ্টা চলছে।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা হারানোর পর থেকে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা আত্মগোপনে, কারাগারে অথবা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা বিদেশে অবস্থান করলেও ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রগুলোর ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠন অথবা দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের কাজ হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই আনুষ্ঠানিক সম্মেলনের পরিবর্তে অনলাইনে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। কোথাও আহ্বায়ক কমিটি, আবার কোথাও সমন্বয়কারী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতার মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, বর্তমান বাস্তবতায় কেন্দ্রীয় সম্মেলন আয়োজন সম্ভব না হওয়ায় তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো সক্রিয় রাখাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং সাংগঠনিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর সাধারণত দলগুলো নেতৃত্ব ও নীতিতে পরিবর্তনের পথে হাঁটে। তবে আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং বিদ্যমান কাঠামো ধরে রেখে সংগঠনের নেটওয়ার্ক টিকিয়ে রাখার কৌশলই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
দলীয় সূত্রের দাবি, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা, অনলাইন যোগাযোগ, সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুধু তৃণমূল পুনর্গঠন বা অনলাইন কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানো কতটা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসমর্থন এবং দলটির সাংগঠনিক ও নীতিগত অবস্থানের ওপর।
